Home / সারাদেশ / দেশে বেড়ে যেতে পারে করোনা

দেশে বেড়ে যেতে পারে করোনা

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি দীর্ঘ মেয়াদী হওয়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে সংক্রমণ প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাসজনিত (কোভিড-১৯) মহামারি বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সরকার সাধারণ ছুটি, লকডাউন পরিস্থিতিসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। করোনা নিয়ন্ত্রণে এখনও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ চলছে। কিন্তু সংক্রমণ কমছে না। মৃত্যুও বাড়ছে।

গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৬১৮ জন। মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৯৬ জনের।

পরীক্ষা সাপেক্ষে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ তিন থেকে চার হাজারের মধ্যে ওঠানামা করছে। দীর্ঘ চার মাসেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। স্বাভাবিক হতে আর কত দিন সময় লাগবে সেটাও এখন অনিশ্চিত। বরং এটা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছিলো, সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। যার ফলে সংক্রমণ ছড়িয়েছে এবং সংক্রমণ দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন সংক্রমণের হার যে পর্যায়ে রয়েছে, পরীক্ষা বাড়লে তা আরও বাড়বে। কারণ করোনা এখন ঢাকার বাইরে ব্যাপকহারে ছড়িয়েছে, গ্রাম পর্যায়ে চলে গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যে পরিমাণ পরীক্ষা হচ্ছে অন্য জেলায় তা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে সংক্রণ কোন পর্যায়ে আছে তাও নির্দিষ্ট করা যাচ্ছে না।

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। কোরবানির পশুর হাট এবং ঈদে ঢাকার বাইরে যাওয়া-আসাহ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যতায়াত বেড়ে যাবে। দুই এক দিনের মধ্যেই শুরু হবে পশুর হাট। এর পর রয়েছে ঈদের ছুটিতে একই সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত। এতে স্বাভাবিকভাবেই সংক্রমণ আরও বাড়বে বলে ওই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

তাদের মতে, বাংলাদেশ এখনও ঝুঁকির মধ্যেই আছে। প্রতিকার ব্যবস্থা জোরালো না হলে এবং বর্তমান অবস্থায় চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এ জন্য প্রতিরোধের যে ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হয়েছে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে।

এদিকে এই সময়ে করোনা সংক্রমণের ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকেও একটা আঞ্চলিকতার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তানেও সমানতালে সংক্রমণ বাড়ছে। ভারত সংক্রমণের দিক থেকে ইতোমধ্যে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দেশের অবস্থানে চলে এসেছে। রাশিয়াকে টপকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিরের পরই ভারতের অবস্থান। সেখানে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৩ জনে।

মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ৬৯৩ জন হয়েছে। পাকিস্তানেও সংক্রমণ বাড়ছে। সেখানে এ পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছে দুই লাখ ২৮ হাজার ৪৭৪ জন। মারা গেছে ৪ হাজার ৭১২ জন। এই তিনটি দেশেরই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং মানুষের আচরণ প্রায় একই। তাই একটি দেশে বাড়তি থাকলে অন্য দেশগুলোতে একইরকম প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশে এখনও সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। আমরা ঝুঁকির মধ্যেই আছি। এই হার এবং ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। এটা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছাবে বা কবে নাগাদ স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, সংক্রমণ প্রতিদিন ৩ হাজার থেকে ৪ হাজারের মধ্যে রয়েছে। ভারত, পাকিস্তানসহ অনেক দেশেই এখনও বাড়ছে। ইতালিতে নতুন করে সংক্রমণ হচ্ছে, আমেরিকায় আবার সংক্রমণ হচ্ছে, লকডাউন দিচ্ছে। এই ভাইরাসের চরিত্র এখনও বোঝা যাচ্ছে না। তাই ঝুঁকি এড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যবিধি কার্যকরভাবে মেনে চলার বিকল্প নেই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এমএইচ চৌধুরী লেলিন (লেলিন চৌধুরী) বলেন, প্রতিরোধের জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো তা আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। যার ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বাড়ছে। আবার আমাদের পরীক্ষার সামর্থ্যও কমেছে। পূর্ণ উদ্যোমে পরীক্ষা করতে পারলে বোঝা যেতো পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে। এই ভাইরাসের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমরা জানি না। একেক জায়গায় একেক ধরণের। প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরালো করতে না পারলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তিনি বলেন, কোরবানির সময় সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিরোধের ব্যবস্থাগুলো ঠিক মতো কার্যকর হলে অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও তিন মাসে কমে যেতো। কিন্তু সেটা না হওয়ায় এখন সংক্রমণ দীর্ঘ মেয়াদী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Check Also

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছেলের চিন্তায় মায়ের হৃদরোগে মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় করোনা আক্রান্ত ছেলের দুশ্চিন্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মা জোবাইদা খাতুনের (৭০) মৃত্যু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *