Home / বাংলা টিপস / হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ৯ কারণ

হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ৯ কারণ

‘একটি হাতি দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ কেজি খাবার খায়। আবার সেই খাবার হাতি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে খায় না। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পথ হেঁটে হেঁটেই খাবার খেয়ে থাকে। হাতি কখনও এক জায়গায় স্থায়ী থাকে না। এটি প্রত্যেকটি হাতির স্বাভাবিক জীবন চক্র।’ কিন্তু প্রকৃতি ও পরিবেশ বদলে যাওয়ায় হাতি এখন তার এ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ। তাই প্রতিনিয়তই হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব বাড়ছে। বনাঞ্চল ছেড়ে লোকালয়ে আসতেই হাতির ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে মানুষ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘটছে হাতি হত্যার ঘটনাও। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ সমকালকে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ২৭০ থেকে ৩২০টি হাতি রয়েছে। এর মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ হাতিই আছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের বনাঞ্চলে। শেরপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ এলাকায় ১০ থেকে ২০ ভাগ হাতি থাকলেও সেগুলো কিছুদিন বাংলাদেশে থাকে আবার কিছুদিন ভারতের বনাঞ্চলে চলে যায়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ক্রমাগত বনাঞ্চল ও পরিবেশ বিপন্ন হতে থাকায় হাতির জীবনযাপনও হুমকির মুখে পড়ছে। হাতি রক্ষায় সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব বাড়ার পেছনে রয়েছে ৯টি কারণ। কারণগুলো হলো- পাহাড়ের বনাঞ্চল নিশ্চিহ্ন তথা উজাড় হওয়া, পছন্দমতো হাতির খাদ্য সংকট, হাতির বসতি ধ্বংস করা, চলাচলের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়া, বনাঞ্চলে যত্রতত্র মানব জনবসতি গড়ে ওঠা, বনাঞ্চলের মাঝ দিয়ে রেললাইন স্থাপন ও সড়ক তৈরি, বিভিন্ন বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন ও চোরা শিকারিদের নিষ্ঠুরতা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হলো- হাতির প্রধান খাদ্য ‘বাঁশ, কলাগাছ, ফলদ উদ্ভিদ ও তৃণলতা’ বনাঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়া না যাওয়া। জুম চাষ ও পাহাড় উজাড় করে ফেলায় সবচেয়ে বেশি খাদ্য সংকটে পড়ছে হাতি। বাংলাদেশের স্থায়ী বন্যহাতির আবাসস্থল চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্যাঞ্চল। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়া; কক্সবাজারের কাসিয়াখালি, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ; বান্দরবানের লামা ও আলিকদম; রাঙামাটির কাউখালী, কাপ্তাই ও লংগদু এবং খাগড়াছগিড়সহ ১১টি বন বিভাগে হাতিকে স্বাভাবিক বিচরণ করতে দেখা যায়।

বন বিভাগের জরিপ অনুযায়ী ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে বন্যহাতির সংখ্যা ছিল ৩৮০টি। ২০০০ সালে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ডের গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে বন্যহাতির সংখ্যা ২৩৯টি। ২০০৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) করা জরিপে দেশে ২২৭টি হাতি পাওয়া যায়। তবে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ তাদের জরিপ অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ২৭০ থেকে ৩২০টি হাতি আছে বলে দাবি করছে। যার ৮০ থেকে ৯০ ভাগ তথা ২২০ থেকে ২৫০টি হাতি চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনাঞ্চলে হাতি আছে ৩০ থেকে ৩৫টি, কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বিভাগ আছে ৮২ থেকে ৯৩টি। বান্দরবানে আছে ১২ থেকে ১৫টি এবং লামা বিভাগে আছে ৩৫ থেকে ৪০টি হাতি। রাঙামাটির উত্তর বিভাগে ৭টি থেকে ৯টি এবং দক্ষিণ বিভাগে ৩০ থেকে ৩৫টি হাতি রয়েছে।

Check Also

আপনি জানেন কি আমলকী আমাদের কি উপকার করে

আমলকি এক প্রকার ভেষজ ফল। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম – আমালিকা। ইংরেজি নাম -aamla বা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *