সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ০১:২৮ অপরাহ্ন


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোশারফ হোসেনের পাঁচ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামের সমর্থকরা।

এ সময় একজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মাইক ভাঙচুর করে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা। এ ঘটনা নিয়ে উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার বিকেলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিনে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর সোনারগাঁ প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোশারফ হোসেনের পক্ষে তার ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার ও বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালাম সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার বিকেল ৫টায় মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ছিল। বিকেল ৪টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোশারফ হোসেন ও তার সমর্থকরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। মোশারফ হোসেনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া শেষে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতার জন্য দোয়া করছিলেন।

দোয়া চলাকালীন সময়ে স্লোগান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন।

এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা তাদের নেতাদের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মাহফুজুর রহমান কালামের সমর্থক সোনারগাঁ পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান রবিন ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট পৌরসভা কমিটির সভাপতি রিয়াদ হোসেন রনির নেতৃত্বে মোশারফ সমর্থদের ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলায় মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল রহমান সজিব, যুবলীগ কর্মী মোহন, রঞ্জিত, মনা ও হারুন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে আবদুল্লাহ আল কায়সার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।

এদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, মোশারফ হোসেনের সমর্থকরা মনোনয়ন জমা দিতে এসে দীর্ঘসময় নির্বাচন অফিস ও উপজেলা চত্বরে অবস্থান করছিল। আমি যাতে মনোনয়ন জমা দিতে না পারি সেজন্য তারা পরিকল্পিতভাবে আমাকে ও আমার সমর্থকদের বাধা দেয়। বাধা পেয়ে কর্মী-সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে এটি প্রতিহত করেছে। আমি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছি। আমি চাই সোনারগাঁয়ে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক।

সোনারগাঁ থানা পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, হামলার ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করেছি।

আরও পড়ুন