সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ০১:০৩ অপরাহ্ন


গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ শাসন করেন মিসরের মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুল তারকার ধারে কাছেও ছিলেন না কেউ। ৩২ গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট। ইপিএলের ইতিহাসের ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার সালাহ জিতলেন এ

পুরস্কার। তবে এবারের রাজত্বটা শুধু তার একার নয়। আরো দু’ভাগ হয়েছে। বাকি দু’জনও আফ্রিকান! একজন সালাহর ক্লাব সতীর্থ সেনেগালের সাদিও মানে। অন্যজন আর্সেনালের গ্যাবনিজ স্ট্রাইকার পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াং।

এই তিনজনেরই সমান ২২ গোল। যেহেতু ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে শুধু গোলের হিসাব, অ্যাসিস্টের হিসাব হয় না। সে সুবাদে চলতি মৌসুমের সর্বাধিক গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ শেয়ার করেছেন সালাহ-মানে-অবামেয়াং। এ নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত অবামেয়াং।

তিনি বলেন, ‘ট্রফিটা আমি আরো দুজন আফ্রিকান ফুটবলারের সঙ্গে ভাগাভাগি করছি। আমি খুব আনন্দিত যে এটি আমরা জিতেছি। আমরা আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করছি, ব্যাপারটা দারুণ!’ আর ৩৮ ম্যাচের ২১টিতে ক্লিনশিট রেখে সেরা গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার।

ম্যান সিটির চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে রানার্সআপ হলো লিভারপুল। দলীয় কোচ ইয়ুর্গন ক্লপ অবশ্য একদিক দিয়ে খুশি। ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলো জিতে তারই শিষ্য। আর গোল্ডেন বুটজয়ী তিনজনের দু’জন ক্লপের বর্তমান শিষ্য। আরেকজন সাবেক। ২০১৩ সালে ফরাসি ক্লাব সেঁত এতিয়েন থেকে অবামেয়াংকে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে নিয়ে আসেন ক্লপ। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ-সম্মেলনে যখন ক্লপকে জানানো হল, অবামেয়াংও রয়েছেন তালিকায়। জার্মান কোচের প্রতিক্রিয়া ছিল এমন, ‘কী, অবাও! এটা ভালো।

তিনজনই আমার খেলোয়াড়।’ ৩৭ রাউন্ড পর্যন্ত ২২ গোলে এগিয়ে ছিলেন সালাহ। ২০ গোল নিয়ে সালাহর পেছনে ছিলেন মানে-অবামেয়াং ও ম্যানচেস্টার সিটির আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড সার্জিও আগুয়োরো। রোবাবার শেষ রাউন্ডে কোনো গোল পাননি সালাহ। তবে মানে-অবামেয়াং উভয়েই করেন জোড়া গোল। ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির ৪-১ গোলের জয়ে একবার জালে বল জড়ান আগুয়েরোও। সেটি ম্যাচের প্রথামার্ধে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে গোল্ডেন বুট সমীকরণ থেকে ছিটকে যান তিনি। ২০১০-১১ মৌসুমের পর এত কম গোলে গোল্ডেন বুট জয়ের এটাই প্রথম ঘটনা। সেবার ২০ গোল করে সর্বাধিক গোলদাতা হন দিমিতার বার্বাতোভ ও কার্লোস তেভেজ।

ইপিএল ২০১৮-১৯ টুকিটাকিচ্যাম্পিয়ন: ম্যানচেস্টার সিটি (৬ষ্ঠ শিরোপা)রানার্সআপ: লিভারপুল

সর্বাধিক গোলদাতা: মোহাম্মদ সালাহ (লিভারপুল, সাদিও মানে (লিভারপুল) ও পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াং (আর্সেনাল)। তিনজনেরই ২২ গোল।

সর্বাধিক অ্যাসিস্ট: ইডেন হ্যাজার্ড (চেলসি)- ১৫সর্বাধিক ক্লিনশিট (গোলরক্ষক) : অ্যালিসন বেকার (লিভারপুল)- ২১

সর্বাধিক ক্লিনশিট (দলীয়): লিভারপুল- ২১সর্বাধিক গোল (দলীয়): ম্যানচেস্টার সিটি- ৯৫

সর্বাধিক হলুদ কার্ড: এতিয়েন কাপু (ওয়াটফোর্ড)- ১৪সর্বাধিক লাল কার্ড: পিয়ের-এমিল হোইবার্গ (সাউদাম্পটন)- ২

সর্বাধিক ফাউল: গ্লেন মারে (ব্রাইটন)- ৮০সর্বাধিক অফসাইড: ক্রিস উড (বার্নলি)- ৫৩

আরও পড়ুন